বই সাজানোর দারুণ কিছু কৌশল
সূচিপত্র
বই গোছানো মানে শুধু সাজানো-গোছানো নয়, বরং এটা এক ধরনের আনন্দদায়ক অভ্যাসও। সঠিকভাবে জানলে, বই সাজানো মোটেই কঠিন কিছু না! সুন্দর করে সাজানো একটি বইয়ের তাক শুধু ঘরের শোভাই বাড়ায় না, মনেও প্রশান্তি আনে এবং বই পড়ার আগ্রহও বাড়িয়ে তোলে।
লাইব্রেরি বিজ্ঞান ও ঘর সাজানোর বিশেষজ্ঞরাও বলেন—গোছানো বই আমাদের মন শান্ত রাখে এবং পড়ার অভ্যাস আরও উন্নত করে। একটা পরিপাটি বইয়ের সংগ্রহ প্রতিদিনের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় এবং আমাদের সময় কাটানোকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
শুরুতেই যা করতে হবে: প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা
বই গোছানোর প্রথম ধাপ হলো—সব বইয়ের একটি তালিকা তৈরি করা। আগে আপনার সব বই এক জায়গায় এনে রাখুন। তারপর প্রতিটি বইয়ের নাম, লেখকের নাম, প্রকাশনার সাল ও প্রতিষ্ঠান, বইয়ের বিষয় (যেমন: উপন্যাস, ইসলামিক, বিজ্ঞান ইত্যাদি), বইয়ের অবস্থা এবং আপনি সেই বইকে কতটা পছন্দ করেন—সব তথ্য লিখে ফেলুন। এই তালিকা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে কোন বই কোথায় রাখবেন।
তারপর তাকের মাপ ঠিকমতো জেনে নিন। প্রতিটি তাকের উচ্চতা, প্রস্থ ও গভীরতা মেপে রাখুন। চাইলে একটা খসড়া চিত্র এঁকে নিতে পারেন—যেখানে কোন বই কোন তাকের কোন জায়গায় থাকবে তা প্ল্যান করে রাখা যাবে।
বই রাখার জায়গায় আলো-বাতাস ঠিক আছে কিনা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা আছে কিনা—সেটাও মাথায় রাখবেন। এছাড়া বই গোছাতে যেসব জিনিস লাগবে (যেমন: নাম লেখার স্টিকার, তাক পরিষ্কারের জিনিস, খাতা-কলম ইত্যাদি), সেগুলোর জন্য একটা ছোট বাজেট করে নিন। আর কাজটা কতদিনে শেষ করতে চান, সেই অনুযায়ী একটা সময়সীমাও ঠিক করে ফেলুন।
বিষয় ধরে ধরে বই গোছানোর সহজ উপায়
বই সাজানোর সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ পদ্ধতি হলো—বিষয়ভিত্তিক (Genre অনুযায়ী) ভাগ করে রাখা। এতে দরকারি বই খুঁজে পাওয়া সহজ হয়, আর আপনার বইয়ের তাক দেখতে লাগে একেবারে লাইব্রেরির মতো গোছানো।
চাইলে নিচের মতভাবে ভাগ করতে পারেন:
১. কুরআন : কুরআন, তরজমা, তাফসির,
২. হাদিস : হাদিসের তরজমা ও ব্যাখ্যা, সিরাত
৩. গল্প-উপন্যাস: উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, নাটক
৪. নন-ফিকশন: জীবনী, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন, রাজনীতি
৫. পড়াশোনার বই: পাঠ্যবই, রিসার্চ পেপার, একাডেমিক বই
৬. রেফারেন্স বই: অভিধান, এনসাইক্লোপিডিয়া, গাইডবুক
৭. বিশেষ আগ্রহের বই: রান্না, ভ্রমণ, শিল্পকলা, খেলাধুলা
৮. শিশু-কিশোর বই: ছোটদের গল্প, ছড়া, শিক্ষা উপযোগী বই
প্রতিটি বড় বিভাগের ভেতরে চাইলে আরও ছোট ভাগ করতে পারেন। যেমন—গল্প-উপন্যাস অংশে আলাদা করে রাখতে পারেন: রহস্য গল্প, রোমান্স, ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফিকশন ইত্যাদি।
যদি আপনার বইয়ের সংখ্যা অনেক বেশি হয়, চাইলে লাইব্রেরির মতো ডিউই ডেসিমেল সিস্টেম (000-999 পর্যন্ত কোড ব্যবহার করে) অনুসরণ করতে পারেন। এতে বইয়ের প্রতিটি বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট নম্বর থাকবে, যা বই গোছাতে ও খুঁজে পেতে আরও সহজ করে তোলে।
লেখকের নাম অনুযায়ী সাজানো
লেখকের নামের প্রথম অক্ষর অনুসারে A থেকে Z পর্যন্ত বই সাজানো একটি প্রচলিত এবং সহজ পদ্ধতি। যদি একই লেখকের একাধিক বই থাকে, তাহলে সেগুলো প্রকাশনার তারিখ অনুযায়ী সাজানো ভালো। একই সিরিজের বই একসাথে রাখুন এবং সিরিজের ক্রম অনুযায়ী সাজিয়ে নিন। এতে আপনার বইগুলো খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হবে।
রঙ ও আকার অনুযায়ী সাজানো
বইগুলো রঙ অনুযায়ী সাজালে তাকটি দেখতে অনেক সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়। আপনি রামধনুর মতো ধারাবাহিক রঙ (লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, বেগুনি) বা একই রঙের বিভিন্ন শেড একসঙ্গে রাখতে পারেন। আকারের দিক দিয়ে বইগুলো লম্বা থেকে খাটো অথবা খাটো থেকে লম্বা করে সাজানো ভালো। মোটা থেকে পাতলা বইয়ের ক্রম বজায় রাখা উচিত, আর ওজনের ক্ষেত্রে ভারি বই নিচে এবং হালকা বই উপরে রাখা ভালো। রঙ আর আকার মিলিয়ে সাজালে তাকের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়, যেমন প্রতিটি রঙের গ্রুপের ভেতর বইগুলো আকার অনুযায়ী সাজানো।
মিশেল পদ্ধতি: কিছু বই দাঁড়িয়ে আর কিছু শুইয়ে রাখা
সব বই সরলভাবে দাঁড়িয়ে না রেখে কিছু বই আড়াআড়িভাবে শুইয়ে রাখতে পারেন। এতে তাকের চেহারা আরও প্রাণবন্ত দেখায় এবং জায়গাও কিছুটা বাঁচে। ৩ থেকে ৫টি বই করে স্তূপ করে রাখা ভালো, তবে স্তূপের নিচে সবসময় বড় ও ভারি বই রাখুন। এই স্তূপগুলো তাকের দুই পাশে বা মাঝখানে রাখতে পারেন। স্তূপের ওপর ছোট ছোট সাজসজ্জার জিনিসও রাখা যেতে পারে। প্রতিটি তাকের জন্য প্রায় ৬০% বই দাঁড়িয়ে রাখা এবং ৪০% বই শুইয়ে রাখার চেষ্টা করুন, এতে তাক দেখতে সুন্দর ও ব্যালেন্সড হয়।
পড়া ও অপঠিত বইয়ের সুবিন্যস্ত ব্যবস্থা
আপনার বইগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করুন—
প্রথমত, যেগুলো ইতিমধ্যেই পড়া শেষ, সেগুলো সাজান আপনার মূল সংগ্রহে, যেন এগুলো আপনাকে স্মৃতি আর জ্ঞানের ভাণ্ডার মনে করায়।
দ্বিতীয়ত, ‘পড়ার অপেক্ষায়’ থাকা বইগুলো এমন স্থানে রাখুন, যেখানে সহজেই চোখ পড়ে এবং সেগুলো আপনাকে নিয়মিত পড়ার প্রেরণা দেয়।
তৃতীয়ত, রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত বইগুলো এমন স্থানে রাখুন, যেখানে হাত বাড়ালেই তা পাওয়া যায়—যেন দরকার মতো আপনি সহজেই জ্ঞানার্জনে নিমগ্ন হতে পারেন।
অপঠিত বইগুলোর জন্য একটি বিশেষ “To Be Read” (TBR) তাক তৈরি করুন, যেখানে এই বইগুলো নিয়মিত চোখে পড়ে এবং আপনি পড়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী সেগুলো সাজিয়ে রাখতে পারেন। আর যেসব বই এখন আর পড়ার সুযোগ কম, সেগুলো আলাদা কোনো বাক্সে রেখে দিন, যাতে প্রয়োজন হলে দান কিংবা বিক্রয়ের মাধ্যমে অন্য কারও উপকারে আসতে পারে।
হার্ডকভার ও পেপারব্যাক বই আলাদা করে সাজানোর উপায়
হার্ডকভার বইগুলো রাখুন উপরের তাকে বা এমন স্থানে যেখানে সবার নজর পড়বে। কারণ এসব বই দেখতে সুন্দর ও মূল্যবান মনে হয়। আর পেপারব্যাক বইগুলো রাখুন নিচের তাকে বা এমন জায়গায় যেখান থেকে প্রতিদিন সহজে নিয়ে পড়া যায়।
ই-বুকের জন্য আলাদা ডিজিটাল ক্যাটালগ তৈরি করুন, যেখানে আপনার সমস্ত ডিজিটাল বইয়ের তালিকা থাকবে।
যে বইগুলো প্রথম সংস্করণ, লেখকের সই করা বা লিমিটেড এডিশন— বিশেষ যত্নে আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করুন। এতে আপনার বইয়ের তাক দেখতে আরো গোছানো হবে এবং বইয়ের ধরন অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় বই খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
নিয়মিত যত্ন
বইয়ের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বই পড়ার পর সেগুলো ঠিক মতো স্থানান্তর করুন এবং ধুলো জমতে দেবেন না। নিয়মিত বইয়ের তাক ঝাড়া দিয়ে পরিষ্কার রাখুন এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।
সপ্তাহে অন্তত একবার তাকের উপরের অংশ পরিষ্কার করুন, সাজসজ্জার জিনিসপত্র ঠিক করুন এবং গাছপালার যত্ন নিন। মাসে একবার বইগুলো বের করে রোদ বা বাতাসে দিন, তাকের পেছনের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং বইয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।
প্রতি তিন মাস অন্তর পুরো বইয়ের ব্যবস্থা একবার পরীক্ষা করুন, নতুন বইয়ের জন্য পর্যাপ্ত স্থান তৈরি করুন এবং সাজসজ্জা বদলে নিন। এই নিয়মিত যত্ন বইগুলোকে দীর্ঘ সময় সুন্দর রাখবে।
ডিজিটাল সহায়তা গ্রহণ
আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আপনার বইয়ের সংগ্রহ আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করুন। গুডরিডসের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে পড়া বই ট্র্যাক করুন এবং রিভিউ লিখুন। লিব্রারি থিংস বা বুক ট্র্যাকের মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত ক্যাটালগ তৈরি করতে পারেন, যা বই ব্যবস্থাপনাকে অনেক দ্রুত ও সঠিক করে তোলে।
এক্সেল বা গুগল শিটে একটি বিস্তৃত ডাটাবেস তৈরি করুন, যেখানে থাকবে বইয়ের নাম, অবস্থান, পড়ার অবস্থা, ব্যক্তিগত রেটিং এবং প্রয়োজনীয় নোট। প্রতিটি বই বা তাকের জন্য QR কোড লাগালে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে এবং হাতের কাছে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এভাবে ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করলে আপনার বইয়ের সংগ্রহ হবে আরও সুবিন্যস্ত ও পরিচালনায় সহজ।
ব্যক্তিগত পদ্ধতি তৈরি করা
বই সাজানোর জন্য একাধিক পদ্ধতির মিশ্রণ করে একটি নিজস্ব হাইব্রিড ব্যবস্থা তৈরি করুন। যেমন, প্রধান বিভাগ জনরা অনুসারে, উপ-বিভাগ লেখকের নাম অনুযায়ী, আর প্রদর্শনী রঙের ভিত্তিতেও সাজাতে পারেন। আপনার ব্যক্তিগত রুচি ও পছন্দ প্রতিফলিত করুন—আপনার প্রিয় বইগুলো আলাদা জায়গায় রাখুন, গর্বের বইগুলোর সুন্দর একটি প্রদর্শনী তৈরি করুন এবং নিজের পড়ার অভ্যাস অনুযায়ী তাক সাজান।
বছরের বিভিন্ন ঋতু অনুসারে তাকের সাজসজ্জাও পরিবর্তন করতে পারেন—শীতকালে উষ্ণ রঙের বই সামনে আনুন, আর গ্রীষ্মে ঠাণ্ডা রঙের বইগুলো রাখুন। এতে আপনার বইয়ের সংগ্রহ থাকবে প্রাণবন্ত ও স্বতন্ত্র, যা আপনার পড়ার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
বিশেষ ধরনের বই ও সংগ্রহ
রেয়ার ও ভিনটেজ বইগুলো বিশেষ যত্নে আলাদা স্থানে রাখুন। এসব বইয়ের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করুন এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রেখে সংরক্ষণ করুন, যাতে এগুলোর স্থায়িত্ব বজায় থাকে এবং মূল্যবান সংগ্রহ রক্ষা পায়।
শিশুদের বইগুলো নিচের তাকে বা মেঝেতে রঙিন ঝুড়িতে সাজান। ছবিওয়ালা বইগুলো সামনে রাখুন যাতে শিশুরা সহজে পায় এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন। কমিক বই ও গ্রাফিক নভেলগুলি স্ট্যান্ডিং ফাইল বা ম্যাগাজিন হোল্ডারে রাখুন, সঙ্গে প্রোটেক্টিভ কভার ব্যবহার করুন এবং সিরিজ অনুসারে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিন।
স্থান সাশ্রয়ী টেকনিক
দেয়ালের পুরো উচ্চতা ব্যবহার করে তাক তৈরি করুন, ফ্লোটিং শেলফ লাগিয়ে সিলিং পর্যন্ত বই রাখার জায়গা বাড়ান। মাল্টি-ফাংশনাল ফার্নিচার যেমন স্টোরেজ অটোমান, বুক শেলফ যুক্ত বেড, আর কফি টেবিল বুক স্টোরেজ ব্যবহার করুন যাতে জায়গার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার হয়। সিঁড়ির নিচের অপ্রয়োজনীয় জায়গাটিও বই রাখার জন্য কাজে লাগান। এইসব পদ্ধতি ছোট জায়গাতেও বেশি বই রাখতে সাহায্য করে।
প্রযুক্তিগত উন্নতি ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
বই সাজানোর ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করুন। অটোমেটিক লাইটিং সিস্টেম, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মনিটরিং, এবং মোশন সেন্সরযুক্ত স্মার্ট শেলভিং ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার বইয়ের পরিবেশ নিরাপদ ও সুবিধাজনক রাখুন। ভিআর (ভার্চুয়াল রিয়েলিটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনার বই সংগ্রহের একটি ভার্চুয়াল ট্যুর তৈরি করুন, যা বইপ্রেমীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বই সাজানোর সর্বোত্তম পদ্ধতি নির্ধারণ করে সময় ও পরিশ্রম বাঁচান। ভবিষ্যতে নতুন বই সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত জায়গার পরিকল্পনা রাখুন এবং ই-বুকের জন্য ডিজিটাল সিস্টেম তৈরি করে আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলুন।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক
বই পড়ার সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার জন্য বুক ক্লাবের বই আলাদা সেকশনে সাজান এবং সেখানে আলোচনার নোট সংরক্ষণ করুন। অতিথিদের স্বাগত জানাতে একটি বিশেষ তাক তৈরি করুন, যেখানে তাদের প্রিয় ও সুপারিশকৃত বইগুলো রাখা থাকবে। আপনার পরিবারের বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বই গুলোকে বিশেষ মর্যাদার সাথে আলাদা করে সংরক্ষণ করুন। বন্ধু ও পরিবারের মধ্যে বই বিনিময় ও আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রাখুন, যাতে জ্ঞানের এই সঞ্চার আরও সমৃদ্ধ হয় এবং সম্পর্কগুলো আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
পরিবেশগত বিবেচনা ও মানসিক স্বাস্থ্য
বই সাজানোর সময় পরিবেশের কথা ভাবুন—পুনর্ব্যবহৃত কাঠের তাক ব্যবহার করুন, ইকো-ফ্রেন্ডলি পেইন্ট দিয়ে সজ্জিত করুন এবং প্রাকৃতিক ফাইবারের ঝুড়ি ব্যবহার করুন। আলোয়ের জন্য LED বাল্ব বেছে নিন, যা বিদ্যুৎ কম খরচ করে এবং তাপও কম উৎপন্ন করে। পুরানো বইগুলো প্রয়োজনীয়দের দান করুন অথবা রিসাইক্লিং সেন্টারে পাঠিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখুন। বইয়ের তাকের পাশে একটি ছোট মেডিটেশন স্পেস তৈরি করুন, যেখানে আরামদায়ক চেয়ার ও পর্যাপ্ত আলো থাকবে—এভাবে পড়ার সময় মানসিক প্রশান্তি অর্জন হবে এবং মনোযোগ বাড়বে।
সমস্যা সমাধান ও অতিরিক্ত টিপস
যখন স্থান সংকট হয়, তখন ভার্টিক্যাল স্টোরেজ ব্যবহার করুন এবং সম্ভব হলে ডিজিটাল বইয়ের সাহায্য নিন। ধুলাবালি কমাতে নিয়মিত তাক পরিষ্কার করুন, অথবা গ্লাস ডোর ব্যবহার করুন যাতে বই গুলো সুরক্ষিত থাকে। বই দ্রুত খুঁজে পেতে ভালো লেবেলিং সিস্টেম গড়ে তুলুন এবং ডিজিটাল ক্যাটালগ ব্যবহার করুন। আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন এবং ভালো বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা বা আগুন থেকে বই রক্ষার জন্য আগাম পরিকল্পনা নিন।
ভারি বই রাখার জন্য বুকএন্ড ব্যবহার করুন, অ্যাডজাস্টেবল বুক সাপোর্ট দিয়ে বইগুলো সঠিকভাবে দাঁড় করান। রঙিন স্টিকার, ছাপানো লেবেল বা হাতে লেখা ট্যাগ দিয়ে লেবেলিং করুন, এতে বই গুলো দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে। সিজন অনুযায়ী বই পাল্টানোর ব্যবস্থা রাখুন — গ্রীষ্মে পড়ার বই, শীতে পড়ার বই এবং ছুটির দিনে পড়ার বই আলাদা আলাদা করে সাজিয়ে নিন। এতে বইয়ের ব্যবস্থাপনা হবে আরও সহজ এবং পড়ার আগ্রহও বাড়বে।
উপসংহার
এই সুবিন্যস্ত ও হৃদয়গ্রাহী পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে আপনার বইয়ের সংগ্রহ শুধু একটি গুচ্ছ পৃষ্ঠা আর মলাট থাকবে না—এটি পরিণত হবে জ্ঞানের এক জীবন্ত জগতে, যেখানে প্রতিটি বই হয়ে উঠবে একটি পথচিহ্ন, একটি স্মৃতির রেখা, একটি নতুন দিগন্তের দুয়ার।
স্মরণ রাখুন, বই গোছানো নিছক সংগঠনের কাজ নয়—এটি এক সৃজনশীল সাধনা, ধৈর্য ও যত্নের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক শিল্প। সময়ের সাথে সাথে আপনার রুচি, চাহিদা ও পাঠাভ্যাস যেমন বদলাবে, তেমনি বদলে যাবে এই জ্ঞানরাজ্যের চেহারাও।
তাই সাহস রাখুন, আপনার নিজস্ব ছাঁদে সাজিয়ে তুলুন এই বইবাটি, আপনার মনের মতো করে গড়ে তুলুন এক ‘পাঠশালা’—যেখানে প্রতিটি তাক থেকে অনুপ্রেরণা ঝরে পড়বে, প্রতিটি বই কথা বলবে আপনাকে আরও জানার, আরও পড়ার আহ্বান জানিয়ে। বইয়ের মাঝে আপনি খুঁজে পাবেন একান্ত আপনার নিজস্ব জগত—শান্তির, ভাবনার, এবং অন্তর্দৃষ্টি জাগরণের।
শেয়ার করুন
Poro Prokash
সম্পর্কিত পোস্ট
সূচিপত্র
অনুসন্ধান করুন
সর্বশেষ পোস্ট

বই সাজানোর দারুণ কিছু কৌশল

বই: জ্ঞানের দীপ্তিময় দীপশিখা

লেখকের দায় ও কলমের দায়িত্ব

সাবস্ক্রাইব
আপনার প্রিয় বইটি যেন মিস না হয় — এখনই আমাদের মেইলিং লিস্টে যুক্ত হোন।